৬ মিনিটে স্ট্যাটাস থেকে আলহামদুলিল্লাহ উধাও ওএসডি অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবিরের

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব এবং বিভিন্ন কাজের জন্য আলোচিত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবিরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মাহবুব কবির নিজেই এই খবরটি ফেসবুকে দেন। তাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার নয় শ জন মন্তব্য করেন এবং শেয়ার হয় পাঁচ হাজার আট শ এর বেশি । আর প্রতিক্রিয়া জানান ৩১ হাজারের বেশি মানুষ।


কিন্তু তিনি গতকাল ৩ টা ৫৮ মিনিটে (ফেসবুক টাইম ১৫ঃ৫৮) ফেসবুকে যা লিখে স্ট্যাটাস দেন, তার ৬ মিনিটের মাথায় তার কিছু অংশ মুছে দেন। অর্থাৎ প্রথমে তিনি স্ট্যাটাস দেন

, ”

আলহামদুলিল্লাহ ওএসডি হলাম। ” সময় ৩ঃ৫৮

এরপরে ৪ টা ৪ মিনিটে তা ইডিট করে আলহামদুলিল্লাহ মুছে দিয়ে লিখেন, ” ওএসডি হলাম। ” সময় ১৬ঃ০৪


ফেসবুক স্ট্যাটাসঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=3433793306672936&id=100001269003109

উপরের স্ট্যাটাস এর ইডিট অপশনে গেলেই দেখা যাবে সবকিছু।

এটা নিয়ে অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। কিন্তু ঠিক কি কারনে তিনি আলহামদুলিল্লাহ মুছে দিলেন, এটা পাঠকের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না।
তবে আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। যে কোনো সুখবর বা ভালো অবস্থা সম্পর্কিত সংবাদের বিপরীতে সাধারণত শব্দটি বলা হয়ে থাকে। যেমন ভাই আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা উচিত, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

সম্প্রতি এক ফেসবুক সাক্ষাৎকারে সব সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধে ১০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালনের ইচ্ছাপোষণ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা খুবই আলোচিত হয়। এর আগে নিরাপদ খাদ্য কর্তপক্ষে দায়িত্ব পালনের সময়ও তাঁর কিছু কাজ প্রশংসিত হয়েছিল। রেলে প্রায় ১৫ হাজার নিয়োগ হওয়ার কথা, সেখানেও স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সবকিছু মিলিয়ে ফেসবুকে রেলের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলনের ওএসডি করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

তার কিছু ভালো কাজ সবাই ফেসবুকে শেয়ার দিচ্ছেন। সবচেয়ে আলোচিত ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

১.মনে আছে হার্টের রিং বাণিজ্য কে বন্ধ করেছিলেন?
২.ফরমালিন দূর করতে কার অবদান ছিলো?
৩.ঘন চিনির নামে রাসায়নিক আমদানি কে বন্ধ করেছিলেন?
৪.বিকাশের প্রতারনা বন্ধে বিকাশের একাউন্ট ডাবলিং কে বন্ধ করেছেন?
৫.আমাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন?
৬.রেলওয়ের টিকেট দূর্নীতি কে বন্ধ করেছেন?
৭.তিন মাসের মধ্যে রেলওয়ের দূর্নীতি কে বন্ধ করতে চেয়েছেন?
উত্তর একটাই Mahbub Kabir Milon বাংলাদেশ সরকারের রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।
সেই ব্যাক্তিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়েছে।
ওএসডি কখন করা হয় জানেনতো?
যারা বলেন সরকারের একার পক্ষে দূর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয় তারা এবার কি ব্যাখ্যা দেবেন?
দূর্নীতিবাজদের আতংক এই সচিবকে কেন ওএসডি করা হলো নাগরিক হিসেবে জানার অধিকার নিশ্চয় আমার আছে। “

ওএসডি কখন করা যায়, সেটা নিয়েও ফেসবুকে আলোচনা হচ্ছে।
এটা নিয়ে জাকিরস বিসিএস পেজ থেকে একটা স্ট্যাটাস দেয়া হয়। ”

টপিকস : ওএসডি

১৯৮৬ সালের নভেম্বরে জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচটি কারণে সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করা যায়।

১) দুর্নীতি, শৃঙ্খলাজনিত, অসদাচরণ ও অযোগ্যতার জন্য প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাকে ওএসডি করা যায়। তবে সর্বোচ্চ ১৫০ দিন ওএসডি রাখা যাবে।

২) দুই মাসের অধিক ছুটি ভোগকারী বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ওএসডি করা যায়;

৩) পুরোনো পদ বা বৈদেশিক চাকরি থেকে অব্যাহতি বা বৈদেশিক প্রশিক্ষণ থেকে প্রত্যাগত এবং নতুন পদে যোগদানের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন এমন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা যায়;

৪) বৈদেশিক চাকরি বা প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্যে অপেক্ষমাণ রয়েছেন এমন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা যায়, এ ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস পর্যন্ত ওএসডি রাখা যাবে এবং

৫) প্রশাসনিক বা অনিবার্য কারণে কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি করা যায়।

//

দেশের ফেসবুক সেলিব্রিটি আরিফ আর হোসাইন লিখেন,


একবার হানিফ সঙ্কেতের সাথে আমার দেখা হয়, তাকে জিজ্ঞেস করলাম “আপনি তো গত ২৯ বছর থেকে ইত্যাদির প্রতি পর্বেই সমাজের একটা না একটা অসঙ্গতি দেখিয়ে হাসিহাসি মুখ করে বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইলো’

আমাকে বলেন তো, আসলে কি লাভ হচ্ছে এতে?

যথাযথ কর্তৃপক্ষের টনক কি, ২৯ বছরে নড়েছে?”

… তিনি হেসে উত্তর দিলেন, ‘যারা এখন কর্তৃপক্ষের সিটে বসে আছে, তাদের জন্য কিন্তু কথাটা বলি না… কথাটা বলি, এই আপনারা যারা একদিন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিটে বসবেন, তাদের জন্য

গত ২৯ বছরে কতো ম্যাজিস্ট্রেট, জাজ, পুলিশ অফিসার, ডাক্তার বড় হয়েছে আমার অনুষ্ঠান দেখে

এদের আজ অনেকেই কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ হয়েছে

আমি এদেরকেই বলে আসছি

সুতরাং আরিফ, আপনার প্রশ্নটা বরং আমার করা উচিত আপনার কাছে, ‘আপনি তো কোন না কোনও জায়গায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ হয়েছেন’… তো আপনি কি চেইঞ্জটা এনেছেন শুনি”

সত্যি বলতে; চোখে আঙুল দিয়ে এতো বড় একটা মিস-কন্সেপশান ভেঙ্গে দেওয়ায়, সেদিন লজ্জা পাইনি… বরং বুকে বল পেয়েছি

আসলেই তো এখন আমাদের সমবয়সী অনেকেই ম্যাজিস্ট্রেট, কেউ জাজ, কেউ জেলা এসপি, কেউ কর্নেল

হানিফ সঙ্কেত আসলে এই আমাদের … এই তরুণদের উদ্দেশ্য করেই এতদিন বলে এসেছে ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হইলো’

… উপরের এই গল্পটা আমি প্রায়ই কোথাও কথা বলতে গেলে বলি

এই গল্পটা আমাকে এনার্জি দেয়

শুধু আমাকে না… আমি শিওর অনেক্কেই দেয়

এরকম অনেকের মাঝে একজন হলেন মাহবুব কবির মিলন… একজন এডিশনাল সেক্রেটারি

উনাকে আমরা সমাজের যে কোন ডাকে একবারও পাইনি… এমনটি আজ পর্যন্ত হয়নি

অতিরিক্ত সচিব হওয়ার কারণে যেখানে উনি ‘স্যার’ ডাকটা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত, সেখানে আমরা ভাই ভাই ডেকে রাত দিন দরকারে বেদরকারে ফোন দিতাম

এমন একটা দিনও হয়নি উনি এগিয়ে আসেনি

উনি যে মন্ত্রণালয়েই গিয়েছেন, আগাছা সাফ করে সেই মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন

হার্টের রিং বাণিজ্য বন্ধের পিছে এই মিলন ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আছে

দেশ থেকে ফরমালিন দূর করতে তার অবদান এখনও অনস্বীকার্য

ঘন চিনির নামে রাসায়নিক আমদানি একমাত্র তিনিই বন্ধ করতে পেরেছিলেন

এই গত সপ্তাহেও বিকাশের প্রতারণা বন্ধের জন্য মাল্টি ডিভাইস লগ ইন বন্ধ করাটা উনার হাত দিয়েই শুরু হয়েছে

উনি সব সময়ই ভোক্তা অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন

আমাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রীতিমত রাস্তায় নেমে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, বিষাক্ত এমবিএম ফিড বন্ধ করেছিলেন, রেষ্টুরেন্ট গুলোতে পরিচ্ছন্নতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করেছিলেন… হুট করে উনাকে থামিয়ে দেয়া হলো

বদলি করে দেয়া হলো ৩ মাস আগে

সেখান থেকে দেয়া হলো রেল মন্ত্রণালয়ে… এখানে এসেও রেলওয়ের টিকেট দূর্নীতি এবং তিন মাসের মধ্যে রেলওয়ের দূর্নীতি কে বন্ধ করতে চেয়েছেন, রেলে স্বচ্ছ নিয়োগ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন… রেলের টিকেট চোরাকারবারীদের ভাত মেরে তিনি নাম, ভোটার আইডি নাম্বার সম্বলিত অনলাইন টিকেটের প্রচলন করার কাজ শুরু করেছেন মাত্র

এখানেও থামিয়ে দেয়া হলো

আজ একদম ফাইনাল থামা

উনাকে বিকালে উনাকে ওএসডি করা হয়েছে

উপরে এতো কথা লেখার উদ্দেশ্য আজ উনাকে নিয়ে না… আমার উনার জন্য একটুও মন খারাপ লাগছে না ট্রাষ্ট মি

বরং খারাপ লাগছে সেই সকল তরুণদের জন্য যারা আজকে পলিসি মেকারের চেয়ারে বসতে পারার পরেও, ভালো কাজ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেললো

শুধু একটা স্বত্বা কিন্তু আজ আমরা হারিয়ে ফেললাম না

হারিয়ে ফেললাম একটা কনসেপ্ট… একটা ধ্যান… একটা ধারণা

আফসোস বাংলাদেশ”


সেই স্ট্যাটাসে মাহবুব কবির মিলন কমেন্ট করেন
, ”

আরিফ আমার জন্য দোয়া করো। আর আমিও দোয়া করি যেন তোমার শেষের ‘সেই সকল তরুণ যারা আজকে পলিসি মেকারের চেয়ারে বসতে পারার পরেও, ভালো কাজ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলবে’ কথাটা সত্য না হয়। ভালো থেকো”

আল্লাহপাক শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারি। “


আরিফ আর হোসাইনের স্ট্যাটাসে ব্র‍্যাক কর্মকর্তা শরিফুল হাসান নামে একজন লিখেন,

” মাহবুব কবির মিলন মানুষ, ফেরেশতা না। কাজেই তার ভুল থাকবে। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন বা রেলের টিকিট নিয়ে তিনি যা করেছেন সেগুলো বাদ দিলাম, হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর যে লড়াই তিনি করেছেন সেটাই তো বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট। উনি একা যা করেছেন বহু কর্মকর্তা বা বহু দপ্তর ২০-২৫ বছরেও তা করতে পারেননি। আফসোস এই দেশে দুর্নীতি করলে পদোন্নতি হয় আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটা ধারণা দিলে সেই ধারণা আইনসম্মত হয়নি বলে তাকে ওএসডি করা যায়। “