ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান হলেন অধ্যাপক এম এম আকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী, প্রসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠাকালীন
বিভাগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অর্থনীতি বিভাগ। আর সেই বিভাগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হলেন বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ ( মাহবুবুল মোকাদ্দেম আকাশ) ।

তিনি সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিকুজ্জামান এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এম এম আকাশের জন্ম ৯ নভেম্বর ১৯৫৪, ঢাকায়।

তাঁর মূল আগ্রহের বিষয় গ্রামীণ আর্থসামাজিক ব্যবস্থা, দারিদ্র্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং একবিংশ শতকের সমাজতন্ত্র।

উল্লেখযোগ্য বই: ভাষা আন্দোলনের শ্রেণীভিত্তি ও রাজনৈতিক প্রবণতাসমূহ, বাংলাদেশের অর্থনীতি: অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং Poverty Reduction Strategies of the International Development Community: The scope for structural change.

মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির প্রথম পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ছিলেন তিনি । বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের চেয়ারম্যান, বিআইডিএসের সিনিয়র ফেলো, বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-৪১) প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য। আজীবন সদস্য, বাংলা একাডেমি ও অর্থনীতি সমিতি।

তিনি বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য। তার এই চেয়ারম্যান হওয়ার খবর ফেসবুকে সয়লাব হয়ে গেছে। তার বিভিন্ন সময়ের শিক্ষার্থীরা আজ দেশ ও দেশের বাইরে শিক্ষকতা করছেন। তুমুল জনপ্রিয় এই শিক্ষককে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তৌহিদ রেজা নূর লিখেন, ” খুব সুসংবাদ – আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের কান্ডারীর আসনে আসীন হয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি গবেষণা, সমাজ চেতনা-বোধ জাগরণী কর্মকান্ড, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণে ব্রতী হবেন এবং সফল হবেন – এই প্রত্যাশা করি।। অনেক ভালোবাসা এবং শুভ কামনা।। ”

আফ্রিদা উরবি নামে এক শিক্ষার্থী লিখেন,

” যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হতে আসি, তখন পছন্দের বিষয়ের তালিকায় আমি এক নম্বরে লিখেছিলাম অান্তর্জাতিক সম্পর্ক, দু’নম্বরে অর্থনীতি। আমার বাবা মা দুজনেই বারবার বলছিলেন, ”অর্থনীতি এম.এম. আকাশ স্যারের বিভাগ, এম.এম আকাশ স্যারের বিভাগ, এখানে ভর্তি হলে স্যারের ক্লাস করতে পারবে।” অনেক ঘটনার ঘনঘটা শেষে আমি সত্যি সত্যিই এম.এম.আকাশ স্যারের বিভাগে হাজির হলাম। প্রথম যেদিন স্যারের বক্তব্য সরাসরি শুনি সেদিনটা ছিলো ই.এস.সির পক্ষ থেকে দেয়া আমাদের নবীন বরণ। বক্তব্যের শেষে স্যার একটা শায়েরী বলেছিলেন,

“পুছো মাত জিন্দেগী ম্যায় কিতনা পাল হ্যায়
মাগার ইয়ে পুছো পাল ম্যায় কিতনা জিন্দগী হ্যায়”

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেয়া প্রথম শিক্ষা আমার এটিই। সম্ভব শ্রেষ্ঠ শিক্ষাও। ধুঁকে ধুঁকে বহুবছর মৃতের মত বেঁচে থাকার চেয়ে প্রতিটি মুহূর্ত জীবন্ত হয়ে, নতুন করে জন্ম নিয়ে বেঁচে থাকতে পারলে, তবেই না সেটি জীবনের মত জীবন।

স্যারকে সরাসরি শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার সুযোগ এসেছিলো মোট দু’বার। দু’বারই যাকে বলে কোনদিকে না চেয়ে স্যারের ক্লাসে দৌড় দিয়েছি। একেকটা ক্লাস করবার পর মনে হতো, আহা এই না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস। স্যার, আমাদেরকেই দিতেন সিলেবাস ঠিক করতে, কোন বিষয়ে আমরা পড়তে চাই, আমাদের মতামত যে এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাই যে হওয়া উচিত তা স্যার আমাদের বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আমাদের নিয়ে টিএসসিতে বসে বিশ টাকার ডাল ভাত খেয়েছেন। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সুখ দুঃখের গল্প বিস্তারিত শুনেছেন। এত আপন করে মনে হয় ক্লাসের বন্ধুরাও কখনো জানতে চায়নি,” বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পিছনের সংগ্রামের গল্পটা কি? শেষ কোন সিনেমা দেখেছি, শেষ কোন বইটা পড়েছি, শেষ কবে কষ্টে কেঁদেছি? ”
স্যার জানতে চেয়েছেন। সাথে সাথে বলেছেন নিজের গল্প। নিজের বেড়ে ওঠার গল্প, কিভাবে মায়ের আঙুল ধরে পড়তে গেছেন স্কুলে, কিভাবে গোগ্রাসে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিম গিলেছেন, ষোল বছর বয়সে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধে ছুটে গেছেন, কিভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন আরও কতকিছু। আমরাও বন্ধুর মত কত কথা জানতে চেয়েছি, সবকিছুই তার স্বভাবসুলভ হাসিতে হেসে হেসে জবাব দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কঠিন সময়ে খুব বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম, সেই বিপদ থেকে কি করে বের হবো কিছুতেই কূল কিনারা করতে পারছিলাম না। স্যারকে বলার সাথে সাথে এমন এক মন্ত্র তিনি আমায় শুনিয়েছিলেন যে মন্ত্রে আমি অনেক শক্তি পেয়েছিলাম, যে শক্তির বলে আমি, আমি থাকতে পেরেছি, উর্বী থাকতে পেরেছি।

মানুষটার সম্পর্কে যতই লিখি কম হয়ে যাবে, আসলে তাঁর সম্পর্কে লেখার যোগ্যতা তো আমার নেই, শুধু এই মানুষটাকে ঘিরে আমার স্মৃতিগুলোই লেখা আমার পক্ষে সম্ভব।

জাতীয় সঙ্গীত শুনিয়ে যেমন তাঁর প্রশংসা কুড়িয়েছি, তেমনি তাঁর পরীক্ষার খাতায় একটা প্রশ্নের উত্তর অন্যটা লিখে নম্বর খুইয়েছিও। তিনিই একমাত্র যিনি বাংলায় পরীক্ষা দেয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন, আমিও ঐ দুইপত্র বাংলা হস্তাক্ষরে পরীক্ষা দেয়ার লোভ সামলাতে পারিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে আমি কি পেয়েছি প্রশ্ন করলে, প্রথম উত্তরটা দেবো আমি একজন আকাশ স্যারকে পেয়েছি।
যার বুকে আছে এক আকাশ পরিমাণ সাহস৷
ঐ হৃদপিণ্ডটাতে কয়টা রিং পরানো জানেন? ঐ রিং পরানো হৃদপিণ্ডটা নিয়ে মানুষটা ছুটে চলেন অপরাজেয় বাংলা থেকে রাজু ভাস্কর্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, সত্য কথা বলতে, শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলতে তাঁর কণ্ঠ কখনো কাঁপেনি,কাঁপে না…

আকাশ স্যার আজ অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
চারদিকের এত এত খারাপ খবরের মাঝে আজকের দিনে এরচেয়ে ভালো খবর আর কিছু হতে পারেনা। ”

আকাশ স্যারের সরাসরি ছাত্র এবং বর্তমানে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সৈয়দ নাইমুল ওয়াদুদ লিখেন, ”

Congratulations to Prof. Dr. Mahbubul Mokaddem Akash sir, on being the new Chairman of our Department of Economics, University of Dhaka.
A big cause of celebration for sir’s generations of students, both home and across the entire world! ”