নতুন অগ্ন্যুৎপাত পূর্বাভাস ব্যবস্থা উদ্ভাবনের দাবি নিউ জিল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের

অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বাভাস পেতে নতুন একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা উদ্ভাবনের দাবি করেছেন নিউ জিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, এ ব্যবস্থা যদি আরও আগে চালু করা সম্ভব হতো, তবে গত বছর হোয়াইট আইল্যান্ড আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের আগে সতর্ক করা যেতো। এড়ানো যেতো প্রাণহানির ঘটনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট আইল্যাণ্ড হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে জীবন্ত আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি। নিউ জিল্যান্ডের মানুষের কাছে এই আগ্নেয়গিরিটি হোয়াকারি নামে পরিচিত। ব্যক্তি মালিকানাধীন এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ করে সেখানে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ আগেও এর জ্বালামুখের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন কিছু পর্যটক। এমন অবস্থায় অগ্ন্যুৎপাতের কবলে পড়ে প্রাণ হারান ২১ জন।

গত সপ্তাহে ন্যাচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে নিউ জিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, তাদের উদ্ভাবিত নতুন ব্যবস্থার আওতায় অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে রিয়েল টাইম ডাটা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হবে।

গত ৯ বছরে হোয়াইট আইল্যান্ড আগ্নেয়গিরির তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্ন্যুৎপাতের আভাস দেয় নতুন এ সিস্টেম। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আগ্নেয়গিরির অবস্থা বুঝতে পারে এটি এবং বলে দিতে পারে যে লাভা উদগীরণের সময় এসেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, হোয়াইট আইল্যান্ডে সংঘটিত গত ৫টি অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে ৪টিরই সফল পূর্বাভাস দিতে পেরেছিল এ ব্যবস্থা।

গবেষক শেন ক্রোনিন বলেন, ‘আমরা একটি ছাড়া সবগুলোর আগে আভাস দিয়েছে এ নতুন সিস্টেম। যে অগ্ন্যুৎপাতের আভাস দেওয়া যায়নি সেটি একটু ব্যতিক্রম ছিল। সেখানে কোনও ম্যাগমা ছিল না। শ্যালো সিস্টেম থেকে উদগীরন হচ্ছিলো। এর সতর্ক সংকেতের ধরন আলাদা। আমরা এ মুহূর্তে মূলত স্বাভাবিক ধাঁচের অগ্ন্যুৎপাতগুলোর আভাস দিতে পারছি। শ্যালো সারফেসের উদগীরন নিয়ে আভাস দিতে দ্বিতীয় মডেল তৈরির কাজ চলছে।’

ক্রোনিন জানান, গত বছর হোয়াইট আইল্যান্ডে অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার আগেই তারা নতুন সিস্টেম নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। উদগীরন শুরু হওয়ার পর তারা চমকিত হয়েছেন। বুঝতে পেরেছেন তাদের উদ্ভাবিত সিস্টেম কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা আরও দাবি করেছেন, বর্তমানে সেদেশে পুরনো যে সতর্কতা ব্যবস্থা চালু আছে তা সফলভাবে আভাস দিতে পারে না। এটি দশ বছর আগের সময়ের জন্য ঠিক ছিল, তবে এখনকার সময়ের জন্য উপযোগী নয়।

নিউ জিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় অগ্ন্যুৎপাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএনএস সায়েন্স বলছে, নতুন পদ্ধতিটি ব্যবহারের দিক থেকে সম্ভাবনাময়। তবে এটিরও সীমাবদ্ধতা আছে। গবেষণাধীন যেকোনও কিছু নিয়েই উচ্চ মাত্রার অনিশ্চয়তা থাকে। গবেষকরাও স্বীকার করেছেন, তাদের উদ্ভাবিত সিস্টেম শতভাগ কার্যকরী নাও হতে পারে।

সিকদার গ্রুপের দুই ভাইয়ের ‘ভার্চুয়াল আত্মসমর্পণ’, পিপিই জরিমানা

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের করোনা পজিটিভ!