পুরো ইংল্যান্ড ছেয়ে গেছে লাল-সবুজের পতাকায়

আর এবারের বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হওয়ায় প্রবাসী টাইগার ভক্তদের উন্মাদা দেখর গিয়েছে প্রথম ম্যাচ থেকেই। যেখানে ওভালের ২৪ হাজার দর্শকের ১৬ হাজারই ছিল বাংলাদেশী ভক্তরা। শুধু ওভাল নয় পুরো ইংল্যান্ডেই প্রবাসী বাংলাদেশী টাঙিয়েছেন লাল সবুজের পতাকা।

প্রথম ম্যাচ শুরুর আগ থেকেই ওভাল অভিমুখে শুরু হয় এই লাল সবুজের মিছিল। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় এই মিছিলে টাইগার সমর্থকদের সংখ্যা ছিল বেশি। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে কিশোর কিশোরী, যুবক যুবতী, বৃদ্ধ সবার উপস্থিতি ছিল।

যারা সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারেননি, তারা খেলার পুরো সময়টা ছিলেন বাসায় টিভির সামনে। লন্ডনের যেসব এলাকায় রয়েছে বাংলাদেশিদের বসবাস, সেসব এলাকার বাসা বাড়িতে অবস্থানরত লোকজনও শুনেছেন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ রব। ওভালে যাওয়া হয়নি বলে কি হয়েছে, টিভি সেটের সামনে লাল সবুজের জার্সি পরে মা, বাবা, ভাইবোন সবাই মিলেই তৈরি করেছিলেন একেকটি ওভাল।

পরবর্তীতে অন্য ম্যাচ গুলোতেও, হ্যাম্পশায়ার,কার্ডিফে অনেকে দল বেধে বন্ধু, স্বজনের বাসায় বসে উপভোগ করেছেন বাংলাদেশের খেলা। বাঙালি পাড়া হিসাবে খ্যাত লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারায়, বিশেষ করে ইস্ট লন্ডনে, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে টিভি স্ক্রিনে লাইভ খেলা উপভোগ করেছেন বাঙালিরা।

ব্যস্ততম শহর লন্ডনে মুঠোফোনেই অনলাইনে অনেকে খেলা দেখেছেন। কাজের বাধ্যবাধকতা এবং সময় দুটোর মাঝখানে মুঠোফোনের স্ক্রিনে প্রবাসীদের চোখ ও মন ছিলো আটকে। ট্রেনে, বাসে, হেঁটে হেঁটে অথবা কাজের ফাঁকে রোববারের পুরো দিনটি ছিল ক্রিকেটময়। দর্শক গ্যালারি থেকে যখন আওয়াজ উঠছিলো বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, তখন অবাঙালি দর্শকরাও এই আওয়াজে নিজেদের কন্ঠ মিলিয়েছেন, বলেছেন, ‘ওভালতো বাংলাদেশের হোম গ্রাউন্ড।’

টাইগার ভক্তরা নিজ দেশের ব্যানার-ফেস্টুন, মুখে আলপনা আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে হাজির হন ওভালে। আর ওভাল স্টেডিয়ামের সামনে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা বিক্রি করছেন অনেক ব্রিটিশ নাগরিক। শুধু পতাকা নয়, তাদের হাতে ছিল লাল-সবুজের মিশ্রণে বাংলাদেশের নামাঙ্কিত মাফলার। আর মাথায় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্যাপ।

টাইগারদের হুঙ্কারে সাউথ আফ্রিকা যে ওভাল ছাড়ছে, খেলার শেষ দিকে প্রায় সব দর্শকই এটি নিশ্চিত হয়ে উঠেছিলেন। এরপরও টাইগারদের করা ৩৩০ রানের জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানে হেরে যাওয়ার পর প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি দর্শকসহ পুরো দর্শক গ্যালারিই বিজয়ে উল্লসিত মেতে ওঠেন।

ব্রিটেনে বাংলাদেশের প্রধান ব্যবসা সেক্টর হলো কারী রেস্টুরেন্ট। খেলা শেষে রোববার সন্ধ্যায় রেস্টুরেন্টগুলোর অনেক গ্রাহক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করেন। ওভাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড যেন হয়ে উঠেছিলো একখন্ড বাংলাদেশ।